শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক এ্যামোনেষ্টির হিউম্যান রাইটস একাডেমি থেকে বিরল সম্মাননা অর্জন করলেন ফারুক ইকবাল  টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, শক্তিশালী গণমাধ্যমের বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল প্যারাসেইলিং মালিক ফরিদ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের উঁকিঝুঁকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতে পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু সৌদিতে এরদোগান-সালমান-শাহবাজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, হতে যাচ্ছে কি প্রতিরক্ষা চুক্তি? যে কারণে ইসলামে চুপচাপ থাকাও ফজিলতপূর্ণ নতুন তালিকা হবে ইয়াবা কারবারিদের, অপহরণ রোধে বসবে দুই সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়িতে মালিকবিহীন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার পেকুয়ার মগনামায় ওযু করতে গিয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু

বনবিভাগকে ম্যানেজ করে তৈরি হচ্ছে ফিশিং বোট

এম এ সাত্তার:
বনাঞ্চলের মাদার ট্রি (গর্জনগাছ) নিধন করে প্রশাসনের নাগালেই সারিসারি ভাবে ফিশিং বোট তৈরি ও মেরামতের কাজ চলছে। এসব অবৈধ ফিশিং বোট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারী বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ। বনবিভাগের দুর্নীতিবাজ কতিপয় লোকের সঙ্গে গোপনে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বনাঞ্চলের বড় মাদার ট্রি নিধনে স’মিলে চিরাই করে তা ব্যবহার করছে বোট তৈরিতে। এমতাবস্থায় জড়িতরা এলাকার সচেতন মহল ও বনবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাকে বুঝানোর জন্যে ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছেন নাম মাত্র টিপি। তবে এই সব বোট তৈরির সরকারী অনুমতি নেই বলে তথ্য মিলেছে।
এ ব্যাপারে দীঘিরঘোনা বিট অফিসার জানান, ফিশিং বোটের বিষয়টি সে দেখেন না, রেঞ্জ অফিসার ডিলকরেন। বিষয়ে জানতে রেঞ্জ অফিসার কয়েকবার ফোন করলেও মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিষয়ে অবহিত করে এ জানতে চাইলে কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুঠোফোন বলেন, অনুমতি হয় কিভাবে, ওখানে যে ফিশিং ট্রলার তৈরির বিষয়টি জানেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফিশিং বোট গুলো তৈরির মুল হোতা জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তি। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন যাবত অসংখ্য রেডিমেট ফিশিং বোট তৈরি করে মোটা অংকে বিক্রি করেন বলে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। ইতিমধ্যে দুটির কাজ সমাপ্তির পথে, অন্য একটির কাজ শুরু করেন সবেমাত্র।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে সে সত্যতার স্বীকার করে জানান, তৈরিকৃত ফিশিং বোট দুটির মধ্যে একটি হলো মহেশখালীর এমপি আশেক উল্লাহ রফিক সাহেবের, অন্য ২টির কাজ তার ব্যক্তিগতভাবে করছে। এছাড়া আরও ৩/৪ টির কাজ করবেন উক্ত স্থানেই। এসব বোট নির্মাণকাজে বন বিভাগ ও প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আবেদন আস্তে আস্তে রেডি করেছেন। তবে এই কাজের কাগজপত্র যথেষ্ট পরিমাণে আছে। এমপি সাহেবের পাটনার গিয়াস সাহেবও জড়িত আছেন। এমপি সাহেব ছনখোলাতে এসে বোট তৈরির কাজ দেখে  গেছেন ৩/৪ বার।
মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি ফিশিং বোট তৈরি করছেন কক্সবাজার সদর পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা খেয়াঘাট এলাকায়। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কক্সবাজার উত্তর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সরকার মুঠোফোনে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওখানে এত সংখ্যাক ফিশিং ট্রলার তৈরি করা হচ্ছে অথচ আগে কিছুই জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আর এ বোট তৈরির কাজে বন বিভাগ থেকে কাউকে পারমিশন দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
বছর জুড়েই বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফিশিং ট্রলার তৈরির রমরমা বাণিজ্য চললেও তা বন্ধে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার দক্ষিণ ও উত্তর বন বিভাগের অধীন বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত কতিপয় অসৎ কর্মচারীদের ম্যানেজ করে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে ফিশিং ট্রলার তৈরির উৎসবে মেতেছে।
জেলার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের এক নাম্বার ওয়ার্ড ছনখোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন (পূর্বে) এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও চোরাই কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে একাধিক ফিশিং ট্রলার (বোট)। বনসম্পদ নিধনের সঙ্গে জড়িত জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান মাদারট্রি গর্জন গাছের ছিরাই কাঠ দিয়ে ওই ফিশিং বোট (ট্রলার) তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে এ ফিশিং বোটগুলো তৈরি করা হলেও সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ ও প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বছর জুড়েই বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফিশিং ট্রলার তৈরির রমরমা বাণিজ্য চললেও তা বন্ধে স্থানীয় বন বিভাগ ও প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কক্সবাজার দক্ষিণ ও উত্তর বন বিভাগের অধীন বিভিন্ন রেঞ্জে কর্মরত কতিপয় অসৎ কর্মচারীদের ম্যানেজ করে অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে ফিশিং ট্রলার তৈরি করে বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সরকারি অনুমতি ছাড়া যেকোন জলযান তৈরিতে কাঠ মজুদ ও তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা জানা সত্ত্বেও দেশের আইন-কানুনের প্রতি কোন তোয়াক্কা না করে স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের ম্যানেজ করে চোরাই পথে গাছ ও কাঠ এনে নির্বিঘ্নে ফিশিং ট্রলার তৈরি করা হয়। নাম গোপন রাখার কথা বলে এক শ্রমিক জানায়, প্রতিটি ফিশিং ট্রলার তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় বন বিভাগের কর্মচারীদের ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়।এরা মাঝেমধ্যে এসে টাকা নিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৩টি ফিশিং বোট একসাথে (জোড়া) তৈরি করা হচ্ছে।২টির কাজ প্রায় শেষের দিকে। একই স্থানে ৫-১০ ফুট দূরত্বে নতুন করে আরো একটির কাজ শুরু করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ও বাইরের ২০/২৫ জন শ্রমিক কাজ করছে। প্রতিটি ট্রলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্লভ ও মূল্যবান গর্জন গাছের ছিরাই কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে। বোট তৈরীর আশপাশের স্থানজুড়ে মওজুদ রাখতে দেখা যায় বিভিন্ন প্রজাতির অবৈধ ছিরাই কাঠ।
দিঘীরঘোন বনবিট কর্মকর্তা মোশারফ জানান, ফিশিং বোট তৈরির বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তার নেই। এ ব্যাপারে রেঞ্জ অফিসার বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে পিএমখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভয়েস/আআ

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION